1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. বিনোদন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. সারাদেশ
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. ভিডিও গ্যালারী
  11. ফটোগ্যালারী
  12. আমাদের পরিবার
ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএনও’র সাথে তর্কাড়ি, ছাত্রদল নেতা আটক ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মুচলেকায় মুক্তি, এলাকায় তোলপাড় ​

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০৯:২৯:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ১০:০৪:২৬ অপরাহ্ন
ইউএনও’র সাথে তর্কাড়ি, ছাত্রদল নেতা আটক ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মুচলেকায় মুক্তি, এলাকায় তোলপাড় ​ ছবি: দৈনিক সোনালী রাজশাহী
 
 
​রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে জেলা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতাকে আটক, হ্যান্ডকাফ পরানো এবং পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
 
​আটক ও পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া নেতার নাম আব্দুস সবুর বুলেট। তিনি রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের হোজা গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত থেকেই বানেশ্বর বাজার পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে সিরিয়াল ছাড়া তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে দায়িত্বরত ইউএনও এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। ওই সময় ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর বুলেট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী মানুষের সমস্যার কথা বলতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
 
 
অভিযোগ উঠেছে, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইউএনও লিয়াকত সালমান ছাত্রদল নেতা বুলেটকে আটকের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সাধারণ মানুষের সামনে তাকে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও কোনো লিখিত আদেশ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী বুলেটের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়াই তাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয় এবং শিবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ৩০ মিনিট বসিয়ে রেখে পরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে আব্দুস সবুর বুলেট বলেন, আমি সেখানে তেল নিতে যাইনি, শুধু সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনতে গিয়েছিলাম। সেখানে আনসার সদস্যরা আমাকে ধাক্কা দিলে আমি কারণ জানতে চাই। তখন ইউএনও সাহেব কোনো কথা না শুনেই সরাসরি আমাকে অ্যারেস্টের নির্দেশ দেন। আমি বারবার অপরাধ জানতে চাইলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
 
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামিম সরকার এক প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য আমি থানায় যোগাযোগ করলে ওসি জানান যে, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এরপর আমি বিষয়টি নিশ্চিত হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) কল দিই। কিন্তু তিনি আমার সাথে যে ধরনের আচরণ করেছেন, তাতে মনে হয়েছে তাঁর কাছে কিছু জানতে চাওয়াটাও যেন একটা অপরাধ।
​সংগঠনের পরিচয় ও তর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কথপোকথনের এক পর্যায়ে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আমরা কেন সংগঠনের নাম ব্যবহার করছি। আমি তাকে পরিষ্কার করে বলেছি, আমি আমার সংগঠনের পরিচয় দিয়ে কোনো তদবির, সুপারিশ বা কাউকে হুমকি দিতে ফোন করিনি। আমি কেবল একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তথ্যটি জানতে চেয়েছি।"
শামিম সরকার আরও বলেন, একজন নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিতই এমন রুক্ষ আচরণ করেন। কেন বা কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি আমাকে বিস্তারিত কিছুই জানাননি।
 
রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা৷ এটা আমরা আসা করিনি৷ বোতলে তেল দিচ্ছিলো, ছেলেটা প্রতিবাদ করেছে। তবে নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, পরিবেশ নষ্ট হবে বলে উঠিয়ে এনেছি। কিন্তু এই কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছে৷ কারণ ছিলেটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করছিলো সেই অবস্থায় আটক করেছে৷
 
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বানেশ্বর তেল পাম্প থেকে বুলেটকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আটক করেছিলেন। পরবর্তীতে মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমানের সাথে একাধিক বার কলের ( +8801786708444) মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। 
 
সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা পরোয়ানা ছাড়াই একজন রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে হ্যান্ডকাফ পরানো এবং প্রকাশ্যে সাজা ঘোষণা করে পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি একটি প্রোগ্রামে আছি একটু পরে কথা বলবো হ্যা?
 
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে বিষয়টিকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানিমূলক আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Daily Sonali Rajshahi

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ