দুর্গাপুর প্রতিনিধি:
রাজশাহীর দুর্গাপুরে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে ৫ যুবককে কম্বোডিয়ায় পাচার ও পশুর মতো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকসহ তিন ‘আদম দালালের’ বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সুমন ইসলামের বাবা জান মোহাম্মদ এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের সুখানদিঘি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল মান্নান মাস্টার (৫০), কাপড় ব্যবসায়ী মো. বাবুল (৪৮) এবং কম্বোডিয়া প্রবাসী মো. শাকিব (২৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার লেবাসে আব্দুল মান্নান ও সহযোগী বাবুল এলাকায় বিশ্বস্ততা অর্জন করে বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখান। ভুক্তভোগী সুমনের পরিবার জমি বন্ধক ও ঋণ করে কয়েক দফায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়। গত বছরের ৮ অক্টোবর সুমন কম্বোডিয়া পৌঁছালে শাকিব তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ১ হাজার ডলারে একটি চীনা কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। এক বছরের ভিসার কথা বলে তাকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৩ মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা।
সেখানে মানবেতর জীবনযাপন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে সুমনসহ ৫ যুবক দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। পরে জরিমানা ও টিকেটের টাকা জোগাড় করে রিক্তহস্তে সুমন দেশে ফিরলেও তার পরিবারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এলাকার আরও ৪-৫ জন যুবক, যাদের মধ্যে এনামুল নামের একজন এখনও কম্বোডিয়ায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান মাস্টার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও নিজেকে আদম ব্যবসার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। এদিকে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার জানান, তিনি সদ্য যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
সর্বস্ব হারিয়ে এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের দাবি, এই প্রভাবশালী দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
দৈনিক সোনালী রাজশাহী / সোহানুর