রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বন্ধ রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। এর সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৪০ জনের জনবল সংকট, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর চালক না থাকা এবং রোগীদের খাবার প্রস্তুতের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী না থাকার মতো সমস্যা।
ফলে চিকিৎসা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের অনেককেই প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এসব সমস্যার চিত্র দেখা যায়। রোগী সেজে এক্স-রে করাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালের এক্স-রে ফিল্ম অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে এক্স-রে পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪০টি পদে জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি ব্যবহারেও সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য রান্নার কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মী নেই। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে রয়েছে নানা অভিযোগ।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় পুঠিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের এসব সংকট নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী মোল্লা বলেন,
এসব সমস্যা আছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। দেখা যাক সমস্যাগুলো কবে সমাধান হয়।
এক্স-রে ফিল্ম সংকটের বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, এক্স-রে ফিল্ম শেষ হয়েছে, বিষয়টি জানি। কিন্তু আগামী ডিসেম্বরের আগে টেন্ডার না হলে এক্স-রে ফিল্ম দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে সংশ্লিষ্টদের এমন বক্তব্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকলেও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা কেন করা হচ্ছে না? জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যারও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের দাবি, পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল, এক্স-রে সেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীদের খাবারসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দ্রুত পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।