দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুরে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও সড়কের পাশে ‘জামাই মেলা’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান বসানোর পাশাপাশি দোকানপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল পার্কিংয়ে ৪০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মেলা থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ও আলীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ এবং আশপাশের সড়কে স্টল নির্মাণ করতে দেখা যায়। মেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও সড়ক ব্যবহার করে দোকান বরাদ্দ এবং পার্কিংয়ের নামে অর্থ আদায়ের আয়োজন করা হয়েছে। এ অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং এর হিসাব কে রাখবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া মেলার অনুমোদনের নামে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কম্পিউটার সহকারী মো. সুমন আলীর বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান দোকানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউএনও, ডিসি ও এসপি মেলার অনুমোদন দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মেলা শুরু করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। মেলার সার্বিক দায়িত্বে নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলী রয়েছেন বলে জানান তিনি।
আব্দুল আলী বলেন, আলীপুরের জামাই মেলা এলাকার ঐতিহ্য। তাই এ আয়োজন করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও কোনো বাধা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চানন সরকার বলেন, মেলার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা প্রশাসনের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে অবহিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, মেলার অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক সোনালী রাজশাহী / সোহানুর রহমান
দৈনিক সোনালী রাজশাহী / সোহানুর রহমান