আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৪:৫২:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৪:৫২:৫৭ অপরাহ্ন

কারাগারে থেকেও আসামি: বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণার ব্যাখ্যা


 
সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে এজাহারে ৯ নম্বর আসামি করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় জনমনে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে আসা মানেই তিনি চূড়ান্তভাবে দোষী বা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নন। এজাহার হলো একটি প্রাথমিক অভিযোগ। পুলিশের তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।
এ বিষয়ে জানা গেছে, অনেক সময় একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন, আবার একই রকম চেহারার ব্যক্তি থাকার কারণেও প্রাথমিকভাবে নামের বিভ্রান্তি হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পাগলা দেওয়ান সড়কে রাতের অন্ধকারে হাফিজুরের মতো দেখতে হুবহু একই রকম চেহারার অন্য এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে, যাকে দূর থেকে কোনোভাবেই আলাদা করা সম্ভব নয়। এটি পুলিশি তদন্তের একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও পরিকল্পনা, প্ররোচনা বা নির্দেশ দিয়ে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন। তাই ঘটনাস্থলে উপস্থিতি না থাকলেই যে কেউ নির্দোষ, এমনটা বলা আইনসম্মত নয়। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হয়। তাই এই ঘটনার সাথে যদি তার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই তার নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হবে, এটাই আইনের স্বাভাবিক বিধান।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান ইতিমধ্যেই বিষয়টি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি টাইপ মিসটেক বা তথ্যগত ভুল হতে পারে এবং তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তার এই স্বচ্ছ বক্তব্য তার পেশাদারিত্ব ও সততার পরিচয় বহন করে। তানোর থানা পুলিশ সবসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। একটি এজাহারের প্রাথমিক তথ্যগত ভুলকে বড় করে দেখিয়ে পুরো থানার এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কাম্য নয়। এমতাবস্থায়, একটি চলমান তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে পুলিশকে তাদের স্বাভাবিক তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত। তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত সত্য সবার সামনে চলে আসবে।
 
উল্লেখ্য, এজাহারে উল্লেখিত হাফিজুর রহমান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পলায়নের পর থেকে এলাকায় বিভিন্ন নাশকতার সাথে জড়িত ছিলেন।
সম্পাদক : বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : আরিফ হোসেন, বার্তা সম্পাদক : মোশারফ হোসেন, উপদেষ্টা : ফাতেমা বেগম
ই-মেইল: 24sonalirajshahi@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.sonalirajshahi.com, বার্তা বাহক নম্বর: 01715801785, 01766227626, 01784336244, 01712414708